সায়াটিকা রোগের হোমিও চিকিৎসা
সায়াটিকা রোগের হোমিও চিকিৎসা
ডাঃ আইয়ুব রহমানী
DHMS.BHB.MM.BMB.STC.NU
অধ্যাপক ফেনী হোমিও মেডিকেল কলেজ।
যৌন রোগসহ সকল জটিল ও কঠিন
রোগ চিকিৎসায় ৪০ বৎসরের অভিজ্ঞ।
ফেনী আলীয়া মাদ্রাসা মার্কেট (২য় তলা)
মিজান রোড -ফেনী।
01829-618467 # 01815-970040
সায়াটিক স্নায়ুর মূল থেকে এই সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে এর নাম সায়াটিকা। দীর্ঘ ক্ষণ এক জায়গায় বসে থাকলে বা দাঁড়িয়ে থাকলে এই ব্যথা বা অসাড় ভাব বেড়ে যায়। কখনও মেরুদণ্ড ভাঁজ করে কোনও কাজ করার সময় এই সমস্যা হতে পারে।
সায়াটিকার যন্ত্রণা
স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টির কারণে পায়ের দিকে যে ব্যথা, অবশভাব, ঝিনঝিন ভাব অনুভূত হয়, তা সায়াটিকা। কোমরের নিচের অংশে সায়াটিকা স্নায়ুর সমস্যার কারণে এ রোগ হয়।
অনেকেরই কোমর ও পায়ে ব্যথার ইতিহাস থাকে।বর্তমানে ১৪ /১৫ বয়সীদের কমবেশি কোমর ব্যথার অভিযোগ থাকে। কিছু ক্ষেত্রে এ ব্যথা এমন হয় যে তা শুধু কোমরে সীমাবদ্ধ না থেকে পায়েও ছড়িয়ে পড়ে। এক পা বা দুই পায়ে এ ব্যথা অনুভূত হতে পারে। সাধারণত বসে থাকলে ব্যথা বাড়ে। অনেকের ক্ষেত্রে জ্বলে যাওয়ার অনুভূতিও হয়। তবে এটি বাত ব্যাথা নয়।
একক স্নায়ু হিসেবে সায়াটিক শরীরের সবচেয়ে বড় স্নায়ু। কশেরুকার ভেতর দিয়ে যে স্নায়ুরজ্জু বা স্পাইনাল কর্ড যায়, সেটি মেরুদণ্ডের একেবারে শেষ প্রান্তে (লাম্বার ৩, ৪, ৫ ও স্যাকরাল ১ ভার্টিব্রা) উরুর পেছন দিক দিয়ে হাঁটুর নিচের মাংসপেশির মধ্য দিয়ে পায়ের আঙুল পর্যন্ত বিস্তৃত। যখন কোনো কারণে এই নার্ভ বা স্নায়ু যেখান থেকে বের হয়েছে সেখানে বা যেখানে বিস্তৃত হয়েছে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত বা চাপ লাগে তখন সায়াটিকা হয়।
এ রোগ সাধারণত ১৪ /১৫ বছর বয়সে হতে দেখা যায়। মধ্য বয়সে বেশি হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৫০ এই বয়সে রোগটি প্রথম ধরা পড়ে এবং প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের জীবনের কোনো না কোনো সময় সায়াটিকার কম বা বেশি উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সাইকোসিস মায়াজম থেকে হয়।
সায়াটিকার কারণ
মানুষের মেরুদণ্ড অনেক হাড় দিয়ে তৈরি, যাকে ভার্টিব্রা বলা হয়। ঘাড়ে সাতটি, পিঠে ১২টি, কোমরে পাঁচটি স্যাকরাম ও কক্সিস থাকে। ঘাড়ের প্রথম দুটি এবং স্যাকরাম ও কক্সিস ছাড়া বাকি ভার্টিব্রাগুলোর মধ্যে নরম ইলাস্টিক কুশনের মতো বস্তু বা ডিস্ক পাওয়া যায়। এই ডিস্ক প্রতিটি ভার্টিব্রার শরীর বা বডির নিচে থাকে। এগুলো শরীরের ভার বহন করতে মেরুদণ্ডকে সাহায্য করে। এই ডিস্কের পেছনেই রয়েছে স্পাইনাল ক্যানাল, যার ভেতর দিয়ে স্পাইনাল কর্ড বা স্নায়রজ্জু ও অন্যান্য কিছু স্নায়ুও যায়। দুটি ভার্টিব্রার মাঝখানে থাকা ফুটো বা ইন্টাভার্টিব্রাল ফোরামেন দিয়ে স্নায়ু বের হয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে যায়। অল্প বয়সের ডিস্কগুলোর মধ্যে প্রচুর তরল পদার্থ থাকে। ফলে এটি পানি ভর্তি কুশনের মতো কাজ করে এবং চাপ দিলে এর আকৃতির সামান্য পরিবর্তিত হয়ে চাপ সহ্য করতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তরলের পরিমাণ কমে যায়, তখন এই ডিস্কগুলো বেশি চাপ সহ্য করতে পারে না। কোনো কারণে এই ডিস্কগুলো ফেটে গেলে এর ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। সামনের দিকে শক্ত লিগামেন্ট থাকায় ডিস্ক থেকে বের হওয়া অংশ সামনে না গিয়ে পেছনে স্পাইনাল ক্যানেলে চলে আসে এবং স্পাইনাল কর্ড বা নার্ভের ওপর চাপ দেয়। সাধারণত ঘাড় থেকে কোমর পর্যন্ত যেকোনো ডিস্কই বের হয়ে আসতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি হয় ঘাড়ের বা কোমরের নিচের।
সায়াটিকার লক্ষণ
যদিও এ রোগ কোমরের উভয় অংশ এবং দুই পায়েই হতে পারে, তবে এক পার্শে ও এক পায়ে রোগটি বেশি হতে দেখা যায়।
লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে
কোমরে ব্যথা নিচের দিকে ও এক পার্শে।
ব্যথা কোমর থেকে পায়ের দিকে ছড়িয়ে যায়।
উরুর দিকে বেশি অনুভূত হয়।
অনেক ক্ষেত্রে কোমরে কোনো ব্যথা থাকে না, উরুর পেছন দিক থেকে শুরু করে হাঁটুর নিচের মাংসপেশির মধ্যে বেশি ব্যথা করে।
ব্যথা সাধারণত তীব্র ও সুই ফুটানোর মত হয়।
শুয়ে থাকলে ব্যথা কম থাকে, কিছুক্ষণ হাঁটলেও ব্যথা কমে যায়। কিন্তু বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা বাড়ে।
অনেক সময় কিছুক্ষণ হাঁটলে আর হাঁটা যায় না। তখন কিছুটা বিশ্রাম নিলে আবার কিছু সময় হাঁটা যায়।
আক্রান্ত পায়ে ঝিন ঝিন বা অবশ ভাব হয় ও দুর্বলতা অনুভূত হয়।
পাশ ফেরার সময় বা সামনে ঝুঁকে কাজ করার সময় অথবা ভারী জিনিস তোলার সময় হঠাৎ তীব্র ব্যথা হয়, যা কোমর ও উভয় পায়ে হয়।
-স্যাকরাল স্পাইনের (মেরুদণ্ডের নিচের অংশ) এক্স-রে, এমআরআই করার প্রয়োজন হয়। এ রোগের চিকিৎসায় কী কারণে সায়াটিক স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নির্ণয় করা আুনিক চিকিৎসায় জরুরি। কারণ এর ওপরই চিকিৎসার সফলতা নির্ভর করে।
হোমিও ঔষধের মাধ্যমে চিকিৎসাঃ-
দক্ষ চিকিৎসক রোগ-লক্ষণ সংগ্রহ করে
ব্যক্তি- স্বাতন্ত্র্য অনু্যায়ী চিকিৎসা করিলে
রোগী আরোজ্ঞ লাভ করে।
লক্ষণ অনু্যায়ী ঃ- আর্জেন্ট অরাম এগ্নাস এনা এসিড ফ এসিড না বিউফো চায়না কেন্থারি ডায়োস জেলস গ্রাফাই লাইকো মস্কাস মেডো নেট মি সালফ সেলি জিংক লক্ষণভেদে ইত্যাদি ওষুধ প্রয়োগ হতে পারে।
রেজিঃ চিকিৎসক ছাড়া ঔষুধ প্রয়োগ ও
সেবন নিষেধ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন